শুক্রবার ২২ আগস্ট ২০২৫ - ১৯:১২
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সঙ্গে সমগ্র সৃষ্টিজগতের সম্পর্ক

মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে এই জগতে স্থাপন করেছেন। ইমাম মাহদী (আজ্‌জাল্লাহু ফারাজাহু)― যিনি خلیفة‌الله ― দুটি মাত্রার মাধ্যমে সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত: একদিকে তিনি «یدُالحقّی» (আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত), অপরদিকে তিনি «یدُالخلقی» (সমস্ত মাখলুক ও জগতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত)। সুতরাং পুরো জগত তাঁর উপস্থিতিতে রয়েছে এবং তিনি মুহূর্তমাত্রও আমাদের থেকে গাফেল হন না। তাঁর অস্তিত্বের মহিমা এমন যে, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তাঁর নূরের সামনে যেন হাতের তালুতে থাকা একটি ক্ষুদ্র দানার মতো। এ উপলব্ধি আমাদেরকে সর্বদা লজ্জাশীল ও বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আয়াতুল্লাহ নাসেরি এক নৈতিক বক্তৃতায় “আল্লাহ ও মানুষের সঙ্গে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সম্পর্ক” বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, «وَعَدَ اللهُ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْأَرْض»―অর্থাৎ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি করবেন।

এ বিশাল সৃষ্টিজগত, যেখানে লক্ষ-কোটি গ্যালাক্সি, অগণিত নক্ষত্র, গ্রহ ও অন্যান্য সৃষ্টির সমাহার রয়েছে ― সেই সমস্ত মাখলুক ইমাম মাহদী (আ.)-কে আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চেনে। তারা তাঁকে আমার ও আপনার চেয়ে অধিকভাবে জানে। আল্লাহ স্বয়ং সাক্ষ্য দেন যে, আমাদের আত্মা সর্বদা আল্লাহর ওয়ালির সঙ্গে যুক্ত।

হযরত বাকি্য়াতুল্লাহ (আ.ফা.)― আমার প্রাণ তাঁর ওপর উৎসর্গিত হোক― তিনি-ই আল্লাহর খলিফা, এবং আল্লাহই সাক্ষ্য দেন যে তিনি মুহূর্তমাত্রও আমাদের থেকে গাফেল নন। এর অর্থ এই যে, সমগ্র বিশ্বজগত ইমাম মাহদি (আ.)-এর উপস্থিতিতে রয়েছে এবং তিনি নিজেও সর্বক্ষণ আল্লাহর সামনে উপস্থিত।

প্রসঙ্গত «خلیفة‌الله» ধারণার দুটি মৌলিক দিক আছে:

১. «یدُالحقّی»― যা আল্লাহর সঙ্গে তাঁর সরাসরি ও অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক নির্দেশ করে।

২. «یدُالخلقی»― যা সমস্ত মাখলুক ও জগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে বোঝায়।

অতএব ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সত্তায় এ দুইটি দিক একইসঙ্গে বিদ্যমান। তাঁর «یدُالخلقی» মাত্রার কারণে তিনি সমগ্র সৃষ্টিজগত ও সমস্ত মাখলুকের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

যদি আমরা সৃষ্টিজগতের বিশালতাকে উপলব্ধি করতে চাই, তবে ভাবতে হবে যে সমস্ত সৌরজগৎ, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ও গ্রহসমূহ তাঁর নূরানী অস্তিত্বের সামনে যেন হাতের মুঠোয় রাখা একটি ক্ষুদ্র বাদামের মতো।

আল্লাহ সাক্ষ্য দেন, ইমাম মাহদী (আ.ফা.) মুহূর্তমাত্রও আমাদের থেকে গাফেল নন। তিনি আমাদের সমস্ত কাজ, কথা, আচরণ, কর্ম এমনকি অন্তরের গোপন নিয়ত পর্যন্ত জানেন। আর যদি সত্যিই তাই হয়― এবং নিশ্চয়ই তাই― তবে তাঁর এ চিরন্তন জ্ঞানের সামনে আমাদের লজ্জা ও বিনয়ী হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha